ডায়াবেটিস: কী, লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

diabetes symptoms

ডায়াবেটিস হলো এমন একটি রোগ, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এটি দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ এবং স্নায়ুর উপর প্রভাব ফেলে। অনেকে এটিকে সাধারণ সমস্যা মনে করলেও, যারা এই রোগে আক্রান্ত, তারা জানেন এটি কতটা গুরুতর হতে পারে।

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ

ডায়াবেটিস প্রধানত তিন ধরনের হয়ে থাকে:

  1. টাইপ ১ ডায়াবেটিস – এটি সাধারণত শৈশব বা কৈশোরে দেখা যায় এবং দেহ ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না।
  2. টাইপ ২ ডায়াবেটিস – এটি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যেখানে শরীর ইনসুলিন ব্যবহার করতে অক্ষম হয়ে পড়ে।
  3. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস – গর্ভাবস্থায় কিছু নারীর মধ্যে দেখা যায়, যা পরবর্তীতে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ

ডায়াবেটিসের বেশ কিছু পরিচিত উপসর্গ রয়েছে, যেমন:

  • ওজন হঠাৎ কমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত পিপাসা লাগা
  • বারবার প্রস্রাব হওয়া
  • ক্ষতস্থান সহজে না শুকানো
  • ক্লান্তি অনুভব করা
  • ঝাপসা দৃষ্টি

গোপন উপসর্গ: যৌনাঙ্গে চুলকানি

এ ছাড়াও কিছু উপসর্গ রয়েছে, যা অনেকেই জানেন না। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো যৌনাঙ্গে অস্বস্তিকর চুলকানি। চিকিৎসকদের মতে, এটি মূলত ছত্রাকজনিত সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। বিশেষ করে টাইপ-টু ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।

ডায়াবেটিসের কারণ

ডায়াবেটিস বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন:

  • বংশগত কারণ
  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
  • স্থূলতা
  • অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

কীভাবে বুঝবেন?

যৌনাঙ্গে চুলকানি অন্যান্য কারণেও হতে পারে, যেমন অন্তর্বাসের অসতর্ক ব্যবহার বা অ্যালার্জির সমস্যা। কিন্তু এটি ডায়াবেটিসজনিত কিনা তা বুঝতে হলে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলোর প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি:

  1. সংক্রমণ বারবার হওয়া – যদি চুলকানি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বারবার ফিরে আসে, তবে এটি ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে।
  2. প্রস্রাবের সময় জ্বালা অনুভব করা – এটি ডায়াবেটিসের আরেকটি সাধারণ উপসর্গ।
  3. যৌনাঙ্গের চারপাশের ত্বকে লালচে ভাব – ছত্রাক সংক্রমণের কারণে এটি হতে পারে।
  4. অন্যান্য উপসর্গের উপস্থিতি – যদি অতিরিক্ত পিপাসা, বারবার প্রস্রাব, অথবা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়, তবে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব, বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে। কিছু কার্যকর প্রতিরোধের উপায় নিম্নে দেওয়া হলো:

  • সুষম খাদ্য গ্রহণ – শর্করাযুক্ত খাবার কমিয়ে, বেশি পরিমাণে সবজি ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।
  • নিয়মিত ব্যায়াম – প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম করা দরকার।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ – স্থূলতা ডায়াবেটিসের বড় কারণ, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
  • চিনি ও প্রসেসড খাবার এড়ানো – সফট ড্রিংকস, মিষ্টি জাতীয় খাবার ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খেতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পানি পান – পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের হয়ে যায়।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা – রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিস শুধুমাত্র একটি রোগ নয়, এটি পুরো শরীরের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। অনেক সময় রোগটি গোপনে দেহে বাসা বাঁধে এবং সাধারণ কিছু উপসর্গের মাধ্যমে ইঙ্গিত দেয়। তাই শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অনুসরণ করা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *