পর্তুগালে বসবাস ও কাজের স্বপ্ন পূরণ করার পর অনেক প্রবাসীর প্রথম ইচ্ছা থাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে নিয়ে আসা। পর্তুগালের টেম্পোরারি রেসিডেন্সি কার্ড (TRC) বা অস্থায়ী আবাসিক কার্ডধারীদের জন্য ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন প্রক্রিয়া সেই সুযোগ করে দেয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানদের পর্তুগালে আনা সম্ভব। তবে ২০২৫ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে, যা জানা অত্যন্ত জরুরি।
পর্তুগালের বৈধ TRC থাকলে একজন ব্যক্তি আইনত দেশটিতে বসবাসের অধিকার পান। এই অবস্থান থেকেই তিনি পরিবারের সদস্যদের পুনর্মিলনের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে শুধুমাত্র কার্ড থাকা যথেষ্ট নয়; নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্পনসরকে সাধারণত অন্তত দুই বছর বৈধভাবে পর্তুগালে বসবাস করতে হবে। অর্থাৎ, সম্প্রতি রেসিডেন্সি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিবারকে নিয়ে আসা এখন আর সহজ নয়।
ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশনের ক্ষেত্রে প্রধানত স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে নির্ভরশীল বাবা-মা বা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলেও সেটি প্রমাণসাপেক্ষ এবং তুলনামূলকভাবে জটিল। নির্ভরশীলতার প্রমাণ, আর্থিক সহায়তার ইতিহাস এবং আইনি নথিপত্রের যথার্থতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পর্তুগাল সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে স্পনসর ব্যক্তি তার পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত বাসস্থান ও আর্থিক সামর্থ্য রাখেন। তাই আবেদনকারীর উপযুক্ত বাসস্থান থাকার প্রমাণ দেখাতে হয়, যেমন ভাড়ার চুক্তিপত্র বা সম্পত্তির মালিকানার কাগজ। পাশাপাশি নিয়মিত আয়ের প্রমাণ, ট্যাক্স রেকর্ড বা কর্মসংস্থানের তথ্য জমা দিতে হয়। এই আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রমাণ না থাকলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন আবেদন বর্তমানে পর্তুগালের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ AIMA-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা পূর্বের Serviço de Estrangeiros e Fronteiras (SEF)-এর পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করছে। আবেদন জমা দেওয়ার পর নথিপত্র যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের ধাপ সম্পন্ন হয়। প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তাই প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৫ সালের অক্টোবরের নতুন নিয়ম অনুসারে দুই বছরের বৈধ বসবাসের শর্ত অনেকের জন্য পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারে। যারা সদ্য TRC পেয়েছেন, তাদের উচিত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার আগে এই সময়সীমা মাথায় রাখা। একই সঙ্গে আর্থিক ও বাসস্থানের মানদণ্ড পূরণে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সবশেষে বলা যায়, পর্তুগালে পরিবারের সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব, তবে নিয়ম ও প্রক্রিয়া সঠিকভাবে জানা এবং যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন আইনি পরিবর্তন সম্পর্কে আপডেট থাকা এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে।
